বৃহস্পতিবার ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

আইপিও পূর্ব অনিয়ম ধামাচাপা, অডিট ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | 30 বার পঠিত | প্রিন্ট

আইপিও পূর্ব অনিয়ম ধামাচাপা, অডিট ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন যথাযথভাবে নিরীক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনটি অডিট ফার্ম ও চারজন অডিটরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

গত ২৩ এপ্রিল পৃথক আদেশে মাহফেল হক অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, আতা খান অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক চারজন অংশীদার অডিটরকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

Responsive Ad Banner

বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হলেও অডিটররা প্রায়ই দায়মুক্ত থেকে যাচ্ছেন। এর ফলে ভুল বা বিভ্রান্তিকর আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বিএসইসি জানায়, রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের টানা তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষায় গুরুতর অনিয়ম করেছে উল্লিখিত তিনটি অডিট ফার্ম। কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও)-এর আগে প্রাইভেট অফারের মাধ্যমে বিনামূল্যে শেয়ার বিতরণ করে, যা কমিশনের ভাষায় জালিয়াতির শামিল।

এছাড়া যেসব শেয়ারহোল্ডার শেয়ারের মূল্য পরিশোধ করেননি, তাদের কাছেও স্টক ডিভিডেন্ড বিতরণ করা হয়। ফলে প্রকৃত অর্থ বিনিয়োগ ছাড়াই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালে কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও এসব অনিয়ম অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি বলে জানায় কমিশন।

মাহফেল হক অ্যান্ড কো.
২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষায় ব্যর্থতার কারণে মাহফেল হক অ্যান্ড কো.-কে তিন বছরের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ না করেই প্রতিষ্ঠানটি ‘অপরিবর্তিত অডিট মতামত’ দিয়েছে। সম্পদ, রিজার্ভ ও নিট মুনাফার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

এছাড়া ফেয়ারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২০১৮ সালের নিরীক্ষায় ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই ঘটনায় সাবেক অংশীদার মো. আব্দুস সাত্তারকে পাঁচ বছর এবং মো. আবু কায়সারকে দুই বছরের জন্য অডিট কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

আতা খান অ্যান্ড কো.
রিং শাইন টেক্সটাইলসের ২০১৯ সালের নিরীক্ষায় সম্পদ ও মুনাফা সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে ব্যর্থ হওয়ায় আতা খান অ্যান্ড কো.-কে তিন বছরের জন্য বিএসইসি’র অডিটর প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি ‘অপরিবর্তিত মতামত’ প্রদান করেছে, যা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার মাকবুল আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য অডিটর প্যানেল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কো.
২০২০ সালের নিরীক্ষায় অনিয়মের কারণে শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কো.-কে তিন বছরের জন্য অডিটর প্যানেল থেকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে বিএসইসি।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির এনগেজমেন্ট পার্টনার রমেন্দ্র নাথ বসাক—যিনি বিএসইসি’র অনুমোদিত তালিকাভুক্ত অডিটর ছিলেন না—তাকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস) অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং পর্যাপ্ত নিরীক্ষা প্রমাণ ছাড়াই মতামত প্রদান করেছে।

Facebook Comments Box

Posted ৬:১৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com